ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

এইচএসসির ফল দ্রুত দিতে সংসদে বিল

:: নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২১-০১-১৯ ১৭:২৭:২৫

বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়া ছাড়াই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আইনি বাধা দূর করতে জাতীয় সংসদে তিনটি পৃথক বিল উত্থাপন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তবে বিলগুলোর বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। এসব বিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলীয় এ এমপি।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

এরপর ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৯৬ সংশোধনে একটি বিল ‘ইন্টারমিডিয়েট এন্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (সংশোধন) বিল-২০২১’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল ২০২১ এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল ২০২১ সংসদে উত্থাপিত হয়।

বিলের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, সংবিধানে ‘একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান’ কথাটা বলা আছে। সেখানে রাষ্ট্র ১২ বছর পাঠদানের দায়িত্ব নিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন আপনি পরীক্ষা উঠায়া দিবেন এটা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে কি না? ওখানে পরীক্ষার কথা বলা আছে, পদ্ধতির কথা বলা আছে। পরীক্ষা উঠানোর কথা নেই। তাই এটা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কি না?’

তাছাড়া কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ (ঙ) অনুসরণ না করায় সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় এই এমপি। তিনি বলেন, ‘এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিলের বিরুদ্ধে আমি নই। কিন্তু এখানে কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭-এর (ঙ) অনুসারে যে কোনো বিল তিন দিন আগে পাওয়ার কথা ছিল আমার। কিন্তু তা আমি পাইনি। কালকেও আমি খুঁজেছি। পাইনি।‘

এর জবাবে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার অনুমতি সাপেক্ষেই বিলটি এসেছে। কেননা এর কিছু গুরুত্ব আছে। এই তিনটি বিল আমাদের পাস করে দিতে হবে। সেই বিবেচনায় এই বিলগুলোকে আসার সম্মতি দিয়েছি।’

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এই বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এইচএসসি ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবাই অপেক্ষা করছেন এবং আমাদের ফলাফল সব প্রস্তুতও আছে। কিন্তু যেহেতু আইনে পরীক্ষা গ্রহণপূর্বক ফলাফল দেবার বিষয়টি ছিল এবং এবার যেহেতু বৈশ্বিক সংকটের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তাই আমরা বিকল্প একটি পদ্ধতিতে আগের দুটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই ফলাফল দিতে যাচ্ছি। সে কারণে বর্তমান আইনটি সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সে কারণে এটি আনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় দ্রুততার কথা এসেছে। এটি অত্যন্ত জরুরি। আমাদের বোর্ডের সমস্ত পরীক্ষা এই আইনের অধীনেই হয়।’

পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয় এবং একদিনের মধ্যে বিলের ওপর প্রতিবেদন রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা ও কারগরি শিক্ষা বিলের ওপর দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। সংসদীয় কমিটিতে বিল তিনটি অনুমোদন লাভ করার পর চলতি অধিবেশনেই বিল তিনটি পাস হলে এইচএসসি ফলাফল প্রকাশ করা হবে।