ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১

প্রস্তাব যাচ্ছে এনইসি সভায়

এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান করতে চায় সরকার

:: সিটি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-১২-২৮ ২৩:১৪:৩৫

  • অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত
  • দেশে দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ-বিবিএস
  • পাঁচ বছরে দারিদ্র্যের হার ১৬ শতাংশের নিচে আনার লক্ষ্যমাত্রা

করোনার প্রভাব মোকাবিলা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এতে ১ কোটি ১৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

একই সাথে বার্ষিক আট শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া খসড়া দলিলে মানসম্মত শিক্ষা, আয়-বৈষম্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার পাঁচ বছর মেয়াদি (২০২১-২০২৫) প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনা কমিশনের তৈরি করা এই দলিলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে ক্রমান্বেয় বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় কৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে খসড়ায়।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এ জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ তথা রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

পাঁচ বছর পর পর পরিকল্পনার দলিল তৈরি করে সরকার। সপ্তম পরিকল্পনার দলিল শেষ হয় গত জুনে। যদিও এর অনেক লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষাসহ যে সব সামাজিক সূচকের লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছে, নতুন পরিকল্পনার দলিলে তা পূরণ করতে হলে বিপুল সম্পদ লাগবে।

খসড়ায় বলা হয়, পুরো মেয়াদে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি মিলে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ কোটি কোটি টাকা (৬৪ হাজার ৯৫৯ বিলিয়ন) লাগবে। এটি জাতীয় বাজেটের ১১ গুণের বেশি। কিন্তু এই অর্থ কীভাবে আসবে, আদৌ জোগান দেয়া সম্ভব কিনা–সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি এতে।

যোগাযোগ করা হলে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ে বরাবরাই আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণে বাজেটে বিশাল ঘাটতি হয়। ঘাটতি কমাতে হলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।’

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খসড়া পরিকল্পনায় যে সব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না। তবে এটি বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থ লাগবে। এ জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়াতেই হবে। এ ছাড়া যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানসম্মত প্রকল্প নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, যদিও করোনার প্রাদুর্ভাবে এই হার অনেক বেড়েছে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়ায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৬ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ে ১ কোটি ১৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, প্রস্তাবিত অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি দারিদ্র্যবান্ধব।

এতে নতুন কর্মসংস্থান, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিশেষত মানসম্মত শিক্ষা ও কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব মোকাবেলাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খসড়া দলিলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেও বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তরা বলেন, দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সংগতি রেখে তৈরি করা হয় এটি। এসডিজির লক্ষ্যসমূহ এতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে খসড়ায়। বলা হয়, কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

বর্তমানে দেশে বছরে রাজস্ব আদায় হয় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, খসড়া পরিকল্পনায় যে লক্ষ্য ধরা হয়, তা পূরণ করতে হলে বছরে কমপক্ষে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আহরণ করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় তা অর্জন করা অসম্ভব।

অবশ্য ড. শামসুল আলম বলেন, আইন-কানুন সহজ ও কর প্রশাসনকে আধুনিকায়ন করতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন করা যাবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেয়ার সুযোগ আছে বলে জানান তিনি।

বেসরকারি খাত বিকাশের মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বছরে গড়ে ৮ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সাড়ে ৮ শতাংশ উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করা হয় খসড়া পরিকল্পনায়।