ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১

টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করুন

:: মোঃ মামুনুর রশিদ খোকন || প্রকাশ: ২০২০-১২-২১ ২৩:০৬:৪৬

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের ১৬মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করেন সরকার । শিক্ষা মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। একটি দেশও জাতিকে যদি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে হয়, তবে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা অমুল পরিবর্তন অস্বীকার্য। শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইতিবাচক ও স্থায়ী আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশুকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। ক্রমবর্ধিত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিনত করার মাধ্যম হলো প্রাথমিক শিক্ষা। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য আমাদের দেশে শিক্ষাখাতেই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।
বর্তমান সরকার ১১ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করলেও ৪১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৬ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষককের জীবনমান উন্নয়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি তারা করোনাকালীন সময়েও কোন প্রকার প্রণোদনা বা কোন প্রকার সহায়তা পাইনি।

প্রাথমিক শিক্ষাখাতকে অবহেলিত রেখে উন্নয়ন কখনো টেকসই হয়না। এসডিজি অর্জনে সরকার নানা মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অথচ শিক্ষা ব্যয় যে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ; তা করছে না সরকার। জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদেও শিক্ষাকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের সাংবিধানে ১৫ ও ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।

এখন প্রশ্ন হলো ৪ হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ না করে অবহেলায় রেখে কি এসডিজি অর্জন বা মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি মিলবে?

বিখ্যাত ফরাসি যোদ্ধা নেপোলিয়ন বলেছেন, কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চাইলে তার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করলেই যথেষ্ট। জাতীয় উন্নয়নের মুল শক্তি-ই হলো শিক্ষা। শিক্ষা কাঠামো সমাজ বা রাষ্ট্রের দর্পনস্বরূপ। আর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রতিফলন হয় জাতির আশা আকাঙ্খা, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবন প্রবাহ। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমও শিক্ষা।

জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিতে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ আজ সময়ের দাবি।শিক্ষাখাতে বাজেট ঘাটতি কখনো কাম্য নয় ।

দেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য উওরসূরি দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয়করণ করলেও জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত ৪ হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো জাতীয়করণের বাইরে। করোনারভাইরাসের কারণে জাতীয়করণের বিষয়ে কোন অগ্রগতি না থাকায় আবার নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে যেতে পারে তারা। জাতীয় শিক্ষানীতি ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ চান শিক্ষকরা।

মোঃ মামুনুর রশিদ খোকন
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটি।