ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১

‘শহিদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, চলার পাথেয়’

:: বেসিক আলি || প্রকাশ: ২০২০-১২-১৬ ০৯:০০:৩৬

মো. আব্দুল ওয়াহাব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিক্ষা অন্ত:প্রাণ মানুষ। সাধারণ মানুষের জীবন-যাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা-সংস্কৃতি আর সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সূর্যসন্তানদের স্মরণ করেছেন কৃতজ্ঞচিত্তে। পঙ্কিল সমাজে সমতা, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা আর ভ্রাতৃত্ববোধ ফিরিয়ে আনতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তারুণ্যদীপ্ত একটি দেশের প্রত্যাশা করেন।

মনে করেন, তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধকে অন্তরে লালন করলে দেশের উন্নয়নে তা অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

মো. আব্দুল ওয়াহাব মনে করেন, দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ যে বিজয় অর্জন করেছে তা অবশ্যই গর্বের, অহংকারের। কিন্তু স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসেও আমরা স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আজ দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে। মানবাধিকার নামে দেশে যা চলছে তাকে মানবাধিকার বলা যায় না। খুন, গুম, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাকে বানানো হয় রাজাকার, আর রাজাকারকে বানানো হয় মুক্তিযোদ্ধা। যেদিন এই সব বিষয়ে বিজয় অর্জন করতে পারবো সেদিনই উল্লাস করে বলতে পারবো আমরা স্বাধীন আমরাই বিজয়য়।

তিনি বলেন, মহান বিজয়ের সাথে মিশে আছে লাখো শহিদের রক্ত ও আত্মত্যঠস। এ আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের চলার পাথেয়, আমাদের চেতনা। উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত করে বীর সন্তানরা তাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতা। কিন্তু আমরা এখনো নব্য উপনিবেশবাদের অন্তর্জালে বন্দি! পাকিস্তানি নামক নরপিশাচদের নিষ্ঠুর যাতাকল থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি ঠিকই, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের কড়াল থাবা থেকে এখনো আমরা মুক্ত হতে পারিনি।

শহিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা চুপিসারে দেখে যাও বাংলা মায়ের আজ করুণ আর্তনাদ। এ ব্যর্থতা আমাদের, এ ব্যর্থতা আমাদের রাজনীতিকদের! তোমরা যে পাকিস্তানি জান্তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলে, যুদ্ধ করেছিলে সেই জান্তাও নতুন খোলসে, নতুন পোশাকে, গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে পালাক্রমে ধর্ষণ করে যাচ্ছে তোমাদের চেতনাকে, তোমাদের স্বপ্নকে।… তারা আগুনে ঝলসে দিচ্ছে, বোমায় ক্ষত-বিক্ষত করছে আমাদের প্রিয় বাংলা মায়ের শরীর!

আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আমার রাজনীতি সাধারণ মানুষের জন্য। নিপীড়িত অসহায়ের জন্য। আমি মনে করি এদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সুশিক্ষিত করতে পারলেই দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করা হবে। দেশের যে ক্রান্তিকাল চলছে তা থেকে উত্তরণের জন্য দক্ষ একটি জনগোষ্ঠী আমাদের খুবই দরকার। সুযোগ পেলে আমার উল্লাপাড়ার সকল তরুণ-তরুণীর জন্য সুশিক্ষার সুযোগ তৈরি করবো। তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করে যাবো। বিজয় দিবস সামনে রেখে এই প্রত্যাশাই করি।